baby-boomআই.ভি.এফ (I.V.F) বা টেস্ট টিউব চিকিত্সা পদ্ধতির সফল পদযাত্রা শুরু হয় ১৯৭৮ সালে যুক্তরাজ্যে লুইস ব্রাউনের জন্মের মধ্য দিয়ে। বর্তমানে, বাংলাদেশেও এই পদ্ধতি বন্ধ্যাত্ব চিকিত্সায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অবদান রাখতে সক্ষম হয়েছে এবং হচ্ছে। অতীতে, আমাদের দেশের রোগীদের মধ্যে আই.ভি.এফ (I.V.F) সম্পর্কে কিছুটা রক্ষণশীল বা নেতিবাচক মনোভাব থাকলেও সাম্প্রতিককালে এই চিকিত্সা পদ্ধতির প্রতি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি যথেষ্ট বদলেছে, বেড়েছে সচেতনতা। বর্তমানে, এদেশে আই.ভি.এফ (I.V.F) পদ্ধতিতে চিকিত্সা দানের সব রকম সুযোগ-সুবিধা বিদ্যমান, বেড়েছে বিশেষজ্ঞ ও সেন্টারের সংখ্যা; যার মাধ্যমে রোগীরা বিশেষ চিকিত্সা সুবিধা পাচ্ছেন বিধায় বাড়ছে গর্ভধারণের সংখ্যা। ফলে, আই.ভি.এফ (I.V.F)-এর জনপ্রিয়তা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে, সেই সাথে বাড়ছে নতুন রোগীর সংখ্যা। বাংলাদেশে টেস্ট টিউব বেবির সংখ্যা আসলে কত তার কোন সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান না থাকলেও, এ কথা বলা যায় যে, ২০০০ থেকে ২০০৭ সালের মধ্যে আই.ভি.এফ পদ্ধতিতে যে সংখ্যক শিশু জন্মগ্রহণ করেছে, ২০০৮ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে জন্মগ্রহণকারী শিশুর সংখ্যা তার দ্বিগুণেরও বেশি। এবং এ অবস্থাটি বিশ্বের অন্যান্য দেশের অবস্থার সাথেও যথেষ্ট সামঞ্জস্যপূর্ণ। সাম্প্রতিককালে (অক্টোবর,২০১৩) ‘ইউ.এস.এ টুডে’ পত্রিকাতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বে টেস্ট টিউব বেবির সংখ্যা আনুমানিক প্রায় পঞ্চাশ লক্ষ। লক্ষণীয় ব্যাপার হচ্ছে, বিগত পঁয়ত্রিশ বছরে জন্ম নেয়া এই পঞ্চাশ লক্ষ শিশুর প্রায় অর্ধেক সংখ্যক, অর্থাৎ, প্রায় চব্বিশ লক্ষেরই জন্ম হয়েছে বিগত ছয় বছরে; যা বর্তমানে বিশ্বব্যাপী আই.ভি.এফ পদ্ধতির ব্যাপক জনপ্রিয়তার প্রমাণ বহন করে। ‘ইন্টারন্যাশনাল ফেডেরেশান অফ ফার্টিলিটি সোসাইটি’ এবং ‘আমেরিকান সোসাইটি ফর রিপ্রডাকটিভ মেডিসিন’-এর সদ্য সমাপ্ত বার্ষিক সভায় এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.