বন্ধ্যাত্ব চিকিত্সার প্রাথমিক ধাপ কি?

বন্ধ্যাত্ব চিকিত্সা প্রকৃতপক্ষে তিনটি ধাপে বিভক্ত-প্রাইমারী বা প্রাথমিক ধাপ, সেকেন্ডারী বা দ্বিতীয় ধাপ, এবং টারসিয়ারী বা চূড়ান্ত ধাপ। কোনো মহিলার প্রাথমিক কিছু পরীক্ষার ফলাফল যদি সন্তোষজনক হয়, অর্থাৎ, যদি ট্রান্সভ্যাজাইনাল আলট্রাসনোগ্রামে পাওয়া যায় যে, তার জরায়ুটি ভালো আছে, ওভারিটি ভালো আছে, সেগুলোতে কোনো টিউমার বা সিস্টের অস্তিত্ব নেই, এবং তার স্বামীর বীর্য বিশ্লেষণ বা সিমেন এ্যানালাইসিস রিপোর্ট যদি সন্তোষজনক হয়, সেক্ষেত্রে তার জন্য প্রাথমিক ধাপের চিকিত্সাটি হচ্ছে তাকে ডিম্বাণু তৈরীতে সহায়তা করা। একজন মহিলার যখন মাসিক শুরু হয়, তখন মাসিকের প্রথম দিকে তার ওভারিতে অজস্র ডিম্বাণু তৈরী হওয়া শুরু করে। ন্যাচারাল সাইক্যাল বা  স্বাভাবিক ঋতুচক্রে, অর্থাৎ, যে চক্রে কোনো ওষুধ প্রয়োগ করা হয়নি এমন ক্ষেত্রে, মিড সাইক্যাল বা মধ্য মাসিকে এই অসংখ্য ডিম্বাণুর মধ্যে কেবলমাত্র একটি ডিম্বাণু বড় হয় এবং বড় হওয়ার পর এর ওভুলেসান হয়, অর্থাৎ, এটি ওভারি থেকে  ফেটে বেরিয়ে গিয়ে পার্শ্ববর্তী ফ্যালাপিয়ান টিউব বা ডিম্বনালীতে প্রবেশ করে। সুতরাং, প্রাথমিক ধাপে আমরা কেবলমাত্র এটিই নির্ণয় করার চেষ্টা করি যে, রোগীর এই ওভুলেসানটি হচ্ছে কী না। এখন, প্রশ্ন হচ্ছে এটি দেখার জন্য আমরা কী করে থাকি? সাধারণত এই পর্যায়ে মহিলাটিকে কিছু ওষুধ খাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়, যেগুলো তিনি খাওয়া শুরু করেন তার মাসিকের তৃতীয় দিন থেকে এবং সপ্তম দিন পর্যন্ত এই ওষুধ খাওয়া অব্যাহত রাখেন। অর্থাৎ, তাকে মোট পাঁচ দিনের জন্য ওষুধ খেতে দেয়া হয়। এরপর এই মহিলাকে তার মাসিকের এগারো বা বারতম দিনে পুনরায় আরেকটি ট্রান্সভ্যাজাইনাল আলট্রাসনোগ্রাম করা হয়। এখন মনে হতে পারে যে, এই আলট্রাসনোগ্রাম করার প্রয়োজনীয়তা কী? এই আলট্রাসনোগ্রামটিকে আমরা বলি টি.ভি.এস ফলিকিউলোমেট্রি, এবং এর মাধ্যমে আমরা দেখতে চেষ্টা করি যে, ওই মহিলার ডিম্বাশয় বা ওভারিতে যে ডিম্বাণুটি তৈরী হলো, সেই ফলিক্যলটির সাইজ পরিণত কী না, অর্থাৎ, ওভুলেসানের জন্য সেটি  যথেষ্ট কী না। যদি কাঙ্ক্ষিত আকারটি না পাওয়া যায়, তাহলে পরবর্তী মাসে তার ওভুলেসান ইনডিউসিং ড্রাগ বা ওষুধের পরিমাণ বাড়িয়ে দিতে হয়। প্রয়োজন হলে, মুখে খাওয়ার ওষুধের পাশাপাশি গোনাডোট্রফিনস ইনজেকসানও প্রয়োগ করতে হয়। এরপর পুনরায় আরেকটি ফলিকিউলোমেট্রি করে দেখতে হয় যে, তার ওভুলেসান হওয়ার জন্য যে সাইজটির প্রয়োজন, তা পাওয়া গেল কী না। শুধু ফলিক্যল সাইজ-ই নয়, এর সাথে ইউটেরাসের ভেতরের লেয়ারের লাইনিং, যাকে আমরা এন্ডোমেট্রিয়াম বলি, সেটিরও সম্পর্ক আছে। অর্থাৎ, ফলিক্যলের সাথে এন্ডোমেট্রিয়ামের একটি ট্রিপল লাইন এ্যাপিয়ারেন্স বা একটি বিশেষায়ত দৃশ্য আসলো কী না, আমরা তা পর্যবেক্ষণ করি। যখন আমরা মহিলার এই দু’টি ব্যাপারে সন্তোষজনক সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারি, তখন তিনি ওই সময় যে মাত্রায় ওষুধ খাচ্ছেন, সেই মাত্রাটি আমরা সাধারণত ছয় মাসের জন্য নির্দিষ্ট করে দেই। এবং, তার স্বামীর সাথে থাকার ব্যাপারটি আমরা সুনির্দিষ্ট করে দেই। এই পর্যায়ে উন্নীত করতে একজন মহিলাকে এক-দু’মাস, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে তিন-চার মাসও ওষুধ দিয়ে দিয়ে ট্র্যাক করে করে ফলিকিউলোমেট্রি করে দেখতে হতে পারে। আমার মতে, প্রাথমিক পর্যায়ে এই প্রক্রিয়াগুলোই তার চিকিত্সার জন্য যথেষ্ট।

Leave a Reply

Your email address will not be published.